ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে সারাদেশে অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
তিনি জানান, রোববার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের আট বিভাগীয় শহরে একযোগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।
এর আগে, শাহবাগে টানা ৩৪ ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালনের পর শনিবার রাতে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে হাদি হত্যার বিচার দ্রুত শুরুর আশ্বাস দেন তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, “ভারত থেকে আসামি ফেরত এনে দ্রুত মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। চার্জশিট থেকে রায়—সব ধাপেই দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে।”
উপদেষ্টা রিজওয়ানা আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সব ধরনের ফরেনসিক পরীক্ষা ও প্রমাণ যাচাই শেষে ৭ জানুয়ারির পর নির্ভুল ও শক্ত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি চার্জশিট দিতে চাই, যাতে কোনো ফাঁকফোকর না থাকে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
এ সময় তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের কিছু আসামি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তবে পালিয়ে গেলেও দায়মুক্তির সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং আসামিদের খুঁজে পাওয়া গেলে ফেরত পাঠাতে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও জানান উপদেষ্টা।
তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিবি পুলিশ রোববার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আরও বিস্তারিত জানাবে।
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকেই হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার সারারাত তারা সেখানে অবস্থান করেন। শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাদির কবর জিয়ারত করতে এলে নিরাপত্তাজনিত কারণে আন্দোলনকারীরা সাময়িকভাবে শাহবাগ মোড় ছেড়ে আজিজ সুপারমার্কেটের সামনে অবস্থান নেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা ফের শাহবাগ মোড়ে ফিরে সড়ক অবরোধ শুরু করেন।
রাতের বিক্ষোভে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “ওসমান হাদি যে লড়াই শুরু করেছিলেন, তা একটি সাংস্কৃতিক লড়াই। আমরা বাংলাদেশপন্থি সব সাংস্কৃতিক সংগঠনকে আমাদের এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাই।”
তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ করে প্রশাসনের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং বলেন, “কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে এর দায় প্রশাসন এড়াতে পারবে না।”
অবরোধ প্রত্যাহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখানে কেউ এসে অবরোধ তুলে নিতে বললেও আমরা তা মানব না। আমাদের লড়াই চলবে।
”
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শাহবাগ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সময়ভেলা/রাজনীতি



সময় ভেলা রিপোর্ট